শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কলাপাড়ায় গভীর রাতে বসতঘর থেকে গৃহবধূ নিখোজ, জনমনে নানা প্রশ্ন হত্যা না গুম ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে কনায় কানায় পরিপূর্ন কুয়াকাটা সৈকত সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ,সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির কলাপাড়ায় কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের সন্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বরিশাল মহানগর বিএনপির ঈদ উপহার বিতরণ পর্যটক আকর্ষনে ঈদকে ঘিরে কুয়াকাটায় চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি কলাপাড়ায় ঈদের চাঁদ উৎসব কলাপাড়ায় ১১ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছে আগাম ঈদ পটুয়াখালীতে আজ ৩৫টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পালিত হচ্ছে কলাপাড়ায় ৩৪টি এসএসসি ব্যাচের ‘হাইস্কুলিয়ান ইফতার ২০২৫’ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া পৌর নির্বাচন।।মেয়র পদে নির্বাচন করতে তৎপর নান্নু মুন্সী কলাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বেগম জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ইফতার কলাপাড়া সাংবাদিক ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান কুয়াকাটায় ১০ দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সভাপতির দুই ছেলে
ঘোড়ার গাড়ীতে এলেন কনে বরিশালে ধুমধাম করে প্রতিবন্ধী বর-কনে’র বিয়ে

ঘোড়ার গাড়ীতে এলেন কনে বরিশালে ধুমধাম করে প্রতিবন্ধী বর-কনে’র বিয়ে

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল নগরের পলাশপুর গ্রচ্ছগ্রামে রোববার বিকেলে এক ভিন্নরকমের বিবাহের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় লোকজন। রোববার বিকেলে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেকে বাড়ি নিয়ে এলেন ঘোড়ার গাড়িতে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ছিলো বর-কনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এতে এলাকার লোকেরা চাঁদা তুলে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সবকিছু করেন। আনন্দে মাতেন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশুরাও। বর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কালাম ব্যাপারি (২২) এবং কনে সুমা আক্তার (১৮) শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী। গতকাল বিকেলে ওই নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর গুচ্ছগ্রামে ১ নম্বর লেনে গিয়ে দেখা যায়, বর-কনেকে ঘিরে আছেন এলাকার লোকজন। তাঁরা নানাভাবে আনন্দ-উৎসব করছেন। সুমন সরদার নামে এই বিয়ের উদ্যোক্তাদের একজন। তিনি জানান, রোববার বিকেলে আমরা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে কনের বাড়িতে যাই। তাঁদের বিবাহ নিবন্ধন হয়।

সেখানে ফিরনি-মিষ্টি দিয়ে উপস্থিত লোকজনকে আপ্যায়ন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে কনেকে বরের বাড়িতে তুলে আনেন তাঁরা। বর-কনের বাড়ি পাশাপাশি হলেও ঘোড়ার গাড়িতে বর-কনেকে পুরো এলাকা ঘোড়ানো হয়। এসময় উৎসুক লোকজন রাস্তার দুপাশে দাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানায়। বিয়ের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য এলাকার লোকজন চাঁদা তোলেন। প্রায় ২৫ হাজার টাকা তুলে বর-করেন পোশাক, আপ্যায়ন ব্যয় থেকে শুরু করে সবকিছু করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ও্য়ার্ড কাউন্সিলর কেফায়েত হোসেনও ছিলেন এই উদ্যোগে। তিনি বিয়ের উপহার হিসেবে বরকে একটি হুইল চেয়ার দেন। স্থানীয়রা জানান, বর কালামের গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জের কালিগঞ্জ গ্রামে। বাবা-মা নেই। তাঁরা দুই ভাই। কালাম ছোট। বড় ভাই আবদুস সালামও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। শ্রমিকের কাজ করে যা আয় করেন তা দিয়ে পলাশপুরের গুচ্ছগ্রামে ছোট্ট একটি খুপড়ি ভাড়া করে থাকেন। আর কনে সুমার বাবা বাবুল পালওয়ান। তিনি রিকশা চালান। দুই মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে পাঁচজনের সংসার চলছে টেনেটুনে। গতকাল সোমবার বিকেলে কথা হয় বর কালাম ব্যাপারির সঙ্গে। কনে সুমা কথা বলতে না পারলেও তার অবয়ব দেখে বোঝা যাচ্ছিল বিয়েতে খুব খুশি সেও। কনের পাশে বর কালামও ছিলেন হাস্যেজ্জ্বল। বিয়ের পর অনুভূতি জানতে চাইলে কালাম হাসতে হাসতে বলছিলেন, ভালোই লাগে, আবার চিন্তাও লাগে। আগে তো এলহা আছিলাম। এহন ঘরে বউ আইছে। কয়ডা টাহা ভাতা পাই। হেইয়্যা দিয়া সোংসার চালামু ক্যামনে? যদি কেউ আমারে একটা কামের (কাজ) ব্যবস্থা করতো তয় নিজের সোংসার নিজেই চালাইতে পারতাম। এই ধরেন কিছু মালামাল দেলে বইয়্যা হেইগুলা বেইচ্চা জীবনডা চইল্লা যাইতো’। নববধু সুমা স্বামীর পাশে বসে আছে। কিন্তু সে স্বামীর এই আকুতি শুনতে পায় না। কিন্তু স্বামীর মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকানো সুমার হাস্যেজ্জ্বল মুখটা তখন অনেকটাই মলিন। বোঝা গেল শ্রবণশক্তি না থাকলেও তার স্বামী যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা বলছেন তা ঠিকই ইন্দ্রীয় তাকে বুঝতে সহায়তা করছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD